একেবারে সর্বোচ্চ ফ্ল্যাগশিপ পারফরম্যান্স দরকার, বাট ওই লেভেলে টাকা পয়সা খরচ করবেন না, তার চাইতে একটু কম। তাদের জন্য এই স্মার্টফোনের মাঝে মোটামুটি সবকিছুই রয়েছে। যেমন ধরুন Qualcomm Snapdragon 8 Elite, যেটা এই মুহূর্তে Qualcomm এরও সর্বোচ্চ এবং Android এর জন্যও সর্বোচ্চ চিপ বলতে পারেন। এই স্মার্টফোনটিতে ফোন ঠান্ডা রাখার জন্য ফ্যান পেয়ে যাবেন, ভিতরে বিশাল বড়সড় ভ্যাপার চেম্বার কুলিং সিস্টেম রয়েছে। আবার 10,000 mAh এর ব্যাটারি রয়েছে, সারাদিন চাইলে গেমিং করুন। ক্যামেরায় মেইন ক্যামেরার পাশাপাশি আল্ট্রাওয়াইড, টেলিফটো ও ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা অবশ্যই আছে। ডিসপ্লেটা একদম সুপার সিমেট্রিক্যাল এবং স্মার্টফোনটা সাইড থেকে দেখতে Apple এর মতো একটা ভাইব দেয়।
Honor Win মার্কেটে লঞ্চ করার সাথে সাথে মোটামুটি সারা বিশ্বেই বেশ ভালো সাড়া ফেলে দেয়, বাংলাদেশেও সেটা লক্ষ্য করা যায়। স্মার্টফোনটি এক মাসেরও বেশি সময় আমাদের কাছে রয়েছে। এর আগে Honor Win RT এর রিভিউ পেয়েছিলেন, আজকে বড় ভাইকে নিয়ে কথা হচ্ছে। Win এবং Win RT দুইটা ডিভাইসই SMS Gadgets আমাদের স্টুডিওতে পাঠিয়েছিল। তাদের কাছে এই ডিভাইসটা এখনই পেয়ে যাবেন, ঢাকা ও ঢাকার বাইরেও তাদের বেশ কিছু জায়গায় আউটলেট রয়েছে। অনলাইন থেকেও পার্চেস করতে পারেন।
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
ডিজাইনের দিকে আসলে Win এবং Win RT দেখতে একই রকম। জাস্ট এখানে একটা ক্যামেরা বেশি, বাকি ডিজাইন প্রায় একই রকম, তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন না। বডি ফ্রেমটায় অ্যালুমিনিয়াম এবং রিয়ার প্যানেলে গ্লাস রয়েছে।
এই যে ফ্যানটা রয়েছে, এখান দিয়ে বাতাস টেনে নেয় এবং এখান দিয়ে বের করে। এই ফ্যানটা, সৎভাবে বলতে গেলে, Honor Win RT এর তুলনায় কিছুটা হলেও বেটার আউটপুট দিচ্ছে বলে মনে হয়েছে। ওইটায় যে রেজাল্ট পেয়েছিলাম তার তুলনায় এটার আউটপুট বেটার।
আপনার এই ডিভাইস যদি পানিতে পড়ে যায়, পানি ঢোকার সম্ভাবনা নেই কারণ IP68 এবং IP69K রেটিং রয়েছে। ফ্যান থাকার পরেও এরকম রেটিং সত্যিই দুর্দান্ত।
আরো পড়ুন: বন্ধ হচ্ছে নগদ | গ্রাহকদের করণীয় কি?
তবে এই ফ্যানটা মোটামুটি ভালোই শব্দ করে। 30 থেকে 40 dB এর মতো নয়েজ তৈরি করে, যেটা বাসাবাড়ির এসি বা প্রজেক্টর চালালে যে ফ্যান ঘোরে কাইন্ড ওরকম টাইপের একটা শব্দ দেয়। পার্সোনালি এটা বিরক্তিকর লাগে। কিন্তু গেম খেলার সময় মোস্টলি এটা অন হচ্ছে, স্পিকারের সাউন্ড লেভেল হাই থাকলে কানে আসবে না। তবে সাউন্ড অফ থাকলে এই জিনিসটা বিরক্ত করতে পারে।
ফোনটার বডি ফ্রেমে একটা এক্সট্রা বাটন দেখা যায়, যেটা ক্যামেরা শাটার বাটন। তবে পজিশনটা অদ্ভুত, অনেক দূরে। স্বাভাবিকভাবে ছবি তোলার জন্য এটা একটু বিরক্তিকর। তবে চেপে কিছুক্ষণ ধরে রাখলে Game Space অন হয়, সেভাবে ব্যবহার করা যাবে।
ডিসপ্লে
ফোনটা হাতে নেওয়ার পরে ডিসপ্লেটা বেশিরভাগ মানুষের কাছে ভালো লাগার কথা। চিন বেজেল একেবারে ন্যারো ও সিমেট্রিক্যাল, কর্নার রাউন্ডেড হওয়াতে ফ্ল্যাগশিপের মতো একটা ফিল দেয়। এটা তো আসলে একটা ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনই। টপ সেন্টারে পিল-শেপড কাটআউট রয়েছে।
ডিসপ্লের সাইজ 6.83 ইঞ্চি, AMOLED প্যানেল, 1 বিলিয়ন কালার সাপোর্ট করে। ডিসপ্লেটা 185Hz রিফ্রেশ রেটের। 185Hz সব জায়গায় পাবেন না, কিছু কিছু গেমে পাওয়া যাবে। বেশিরভাগ অ্যাপের ক্ষেত্রে 120Hz পর্যন্তই পাবেন, কোনোটা 90Hz এ লক হয়। 185Hz পর্যন্ত আসলে খুব একটা প্রয়োজন নেই, তবে থাকলে ওই ধরনের গেম প্লে করার সময় কাজে লাগতে পারে।
Industry-highest PWM dimming 5920Hz রয়েছে এবং 6000 nits পিক ব্রাইটনেস দিতে পারে ডিসপ্লেটা। অবশ্যই সবসময় 6000 nits পাবেন না, কিন্তু আউটডোরে সরাসরি সানলাইটে ইজিলি চালাতে পারবেন কোনো সমস্যা ছাড়াই।
ডিসপ্লেতে কোন ধরনের প্রোটেকশন ব্যবহার হয়েছে সে ব্যাপারে জানা যায়নি, আলাদা করে একটা গার্ড ব্যবহার করা ভালো। ওভারঅল ডিসপ্লে কালার রিপ্রোডাকশন যথেষ্ট ভালো এবং ন্যাচারাল টাইপের কালার প্রডিউস করতে পারছে। মাল্টিমিডিয়া কনজামশনের জন্যও ভালো লাগার কথা।
টাচ রেসপন্স খুবই ভালো। ডেইলি কাজের সময় 145Hz এ কাজ করছে এবং গেমিংয়ে 480Hz পর্যন্ত যেতে পারে। Touch Enhance Mode অন করলে টাচ রেসপন্স আরো বেড়ে যায়, গেমিং টাইমে এটা অবশ্যই একটা বাড়তি সুবিধা।
ওভারঅল দাম অনুযায়ী ডিসপ্লে ভালো জায়গায় আছে। তবে এটা LTPS প্যানেল। স্মার্টফোনটির দাম এই মুহূর্তে 80,999 টাকা।
ক্যামেরা
স্মার্টফোনের রিয়ারে মোট তিনটা ক্যামেরা রয়েছে। 50 মেগাপিক্সেল LYTIA 700, আরেকটা 50 মেগাপিক্সেল IMX856 এবং 12 মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড শুটার। এই দুইটা 50 মেগাপিক্সেলের মধ্যে একটা হলো টেলিফটো, যেখানে 3x পর্যন্ত অপটিক্যাল জুম পাওয়া যাবে। ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরায় রয়েছে 50 মেগাপিক্সেলের শুটার। স্মার্টফোনটি সর্বোচ্চ 4K 60fps এ ভিডিও রেকর্ড করতে পারে।
Win RT এর ক্ষেত্রেও বলেছিলাম, ওই স্মার্টফোন ক্যামেরা ফোকাসড না, পারফরম্যান্স সেন্ট্রিক। এই ডিভাইসটাও এক্সাক্টলি সেম। মেইন ক্যামেরায় 80,000 টাকার অন্য ডিভাইসগুলোর সাথে, যেমন Vivo বা Samsung, কম্পিটিশনে নিতে গেলে কিছু কিছু জায়গায় পিছিয়ে পড়ে।
প্রপার লাইটিং কন্ডিশনে বেশিরভাগ ক্লিকে শার্পনেস, ডিটেইল ও ক্লারিটি ভালো আছে। কিন্তু ক্রিটিক্যাল সিনারিওতে, হেভি হার্শলাইট বা ওয়াইড ডায়নামিক রেঞ্জে কিছুটা মিসিং রয়েছে। লো লাইটে ওই লেভেলের রেজাল্ট দিতে পারছে না যেখানে Samsung বা Vivo এর বেশ কিছু ডিভাইস আরো সুন্দর আউটপুট দিতে পারে। এই প্রাইস পয়েন্ট বিবেচনায় এভারেজ টাইপের একটা ছবি দিচ্ছে বলে মনে হয়েছে।
কালারে কিছুটা টুইকনেস লক্ষ্য করা গেছে। একেবারে ওভার স্যাচুরেটেড না, তবে হালকা কন্ট্রাস্ট ও কিছুটা বুস্টেড। বেশ কিছু ছবিতে একটু ওয়ার্মও আছে। আল্ট্রাওয়াইড ও ফ্রন্ট ক্যামেরার মাঝে কালারে কিছুটা তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। তবে আল্ট্রাওয়াইড দিনের বেলায় বেশ ভালো ডিটেইল ধরে রাখতে পারছে, লো লাইটে মেইন ক্যামেরার তুলনায় আরেকটু পিছিয়ে পড়বে।
পোর্ট্রেট মোডে 1x, 2x এবং 3x ফোকাল লেংথে ছবি তুলতে পারবেন। 2x ও 3x এর ছবিগুলো বেশি ভালো লেগেছে, এজ ডিটেকশনও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তবে ফেসকে হালকা স্মুথ ও ব্রাইট করার একটা প্রবণতা আছে, রিয়েল টোন একদম সেটা দেখাচ্ছে না। 1x এর তুলনায় 2x ও 3x বেটার এবং ডিটেইল লসও নেই।
ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা রেডি টাইপের ছবি দিচ্ছে, ফেসকে প্রায়োরিটি দিতে দেখা যাচ্ছে এবং স্কিন স্মুথ করে একটু গ্লো করার প্রবণতা আছে, ব্রাইটনেসও বাড়িয়ে দিচ্ছে। চাইনিজ ডিভাইসে এই ব্যাপারটা সাধারণত থাকে। সমস্ত বিউটিফিকেশন অফ করে রাখলেও কিছুটা থাকে। তবে এই ধরনের সেলফি অনেকে পছন্দ করে। লাইটিং ভালো থাকলে শার্পনেস ও ডিটেইল ভালো।
ভিডিওতে সর্বোচ্চ 4K 60fps এ রেকর্ড করা যায়। স্টেবিলিটি ভালো, শার্পনেস ও ডিটেইলও প্রপার লাইটে অন পয়েন্টে থাকে। লো লাইটে বা হেভি এক্সপোজার থেকে লো লাইটে নিয়ে গেলে এক্সপোজার কন্ট্রোলিংয়ে কিছুটা সময় নেয় এবং গ্রেইন দেখা যায়।
ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরার ভিডিও 4K 60fps এ রেকর্ড হচ্ছে, ভিডিও বেশ স্মুথ। লাইট ব্যালেন্সটা বেশ ভালোভাবেই করছে, একটা স্মুথনেস লক্ষ্য করা যায়।
তো ক্যামেরাটাকে একদম ফেলে দেওয়া যাবে না, তবে এই বাজেটের সেরা ক্যামেরা ফোনও না।
পারফরম্যান্স ও সফটওয়্যার
SoC হিসেবে Qualcomm Snapdragon 8 Elite রয়েছে, যেটা একেবারে সর্বোচ্চ ফ্ল্যাগশিপ চিপ। স্টোরেজ টাইপ UFS 4.1। 12GB ও 16GB র্যাম ভেরিয়েন্টে পাওয়া যায়, 256GB, 512GB এবং 1TB স্টোরেজ অপশন রয়েছে। MagicOS চলছে Android 16 এর উপর ভিত্তি করে।
এই জায়গায় একদম ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের সবকিছু, একেবারে লেটেস্ট। কোনো কমতি রাখা হয়নি।
ফোনটা ঠান্ডা রাখার জন্য ফ্যান রয়েছে, যেটা 25,000 RPM পর্যন্ত ঘুরতে পারে। সাথে বিশাল বড় ভ্যাপার চেম্বার কুলিং সিস্টেমও ব্যবহার করছে। ডে টু ডে লাইফে এই ফোন কিছুটা গরম হয়। মেটাল বিল্ড ডিভাইস হওয়ায় হাতে বেশি ফিল হয়, 35 ডিগ্রিতেও 38-40 ডিগ্রির মতো মনে হয়। তবে পারফরম্যান্সে কোনো ড্রপ নেই, গেমিং টাইমেও না।
একটা ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন থেকে যে পারফরম্যান্স আশা করেন, এক্সাক্টলি সেটাই ডেলিভার করতে পারছে। ডে টু ডে লাইফে সুপারফাস্ট, মাল্টিটাস্কিংয়ে অনেকগুলো অ্যাপ নিয়ে কাজ করা যাচ্ছে। বেশ কিছু AI ফিচারও রয়েছে।
তবে চাইনিজ ফোন বলে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। বেশ কিছু ব্লোটওয়্যার রয়েছে। নোটিফিকেশনে মাঝে মাঝে ডিলে আছে, যেমন Messenger বা WhatsApp এ টেক্সট এলে সাথে সাথে পপআপ নোটিফিকেশন নাও আসতে পারে। কিছু কিছু সেটিংসে হঠাৎ করে চাইনিজ টেক্সট দেখা পাবেন, যেটা কাজে সমস্যা না হলেও চোখে বিরক্তিকর লাগতে পারে। যারা চাইনিজ UI সম্পর্কে জানেন তারা এগুলো জেনেশুনেই কেনেন।
ফোনে অনেক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ দেখতে পাবেন, সেগুলো আনইন্সটল করে নিলে আরো ক্লিন লাগবে।
গেমিং: PUBG Mobile এ 90fps প্লে করা যাচ্ছিল, 120fps খুব শীঘ্রই পাওয়া যাবে। বাট 90fps এ সুপার লকড রেজাল্ট দিচ্ছে। Honor তাদের তৃতীয় জেনারেশনের Phantom Engine ব্যবহার করছে, যার ফলে ফ্রেম সুপার স্মুথ ও স্টেবল। Steady Frame ফিচার এবং Touch Enhance Mode অন করলে আরো স্টেডি ও স্মুথ রেজাল্ট পাওয়া যাবে।
Genshin Impact 60fps এ লকড রেজাল্ট দিচ্ছে, 59-60 এর মাঝেই ছিল মোস্টলি। কোনো ল্যাগ বা হিকআপ দেখা যায়নি। Delta Force এও ভালো FPS এ প্লে করা যাচ্ছে, তবে মনে হচ্ছে এই গেমটা এখনো সুপার লেভেলে অপটিমাইজড না, আরেকটু সময় গেলে আরো ভালো হবে। Call of Duty Mobile এ দুর্দান্ত রেজাল্ট, একেবারে সুপার স্মুথ। Enhanced Graphics Mode অন করলে দেখতে আরো সুন্দর লাগে।
রেকর্ডিং অন করে গেমপ্লে করলেও পারফরম্যান্স ড্রপ মনে হয় না। গেমিং টাইমে 41 ডিগ্রি পর্যন্ত আমাদের টেস্টিংয়ে এসেছে, যেটা হাতে বিরক্তিকর হবে, কিন্তু পারফরম্যান্সে কোনো ড্রপ নেই।
ফ্যান অন রেখে গেম খেললে ফোন তুলনামূলকভাবে দ্রুতই ঠান্ডা হয়। ফ্যান অন ও অফ রেখে দুইভাবে স্কোর টেস্ট করা হয়েছিল, অনেক বড় পার্থক্য না হলেও ডে টু ডে লাইফে ফ্যানটা কাজে লাগছে সেটা ফিল করা যায়। তবে ব্যাটারি একটু বেশি কনজিউম হবে।
ব্যাটারি ও চার্জিং
10,000 mAh এর ব্যাটারি রয়েছে এবং বক্সে 100 ওয়াটের চার্জিং সিস্টেম পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও 80 ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট রয়েছে, যেটা Win RT তে পাওয়া যায়নি। ওদের ওয়্যারলেস চার্জিং ডকে একটা ফ্যান আছে, তাই ওয়্যারলেস চার্জিং টাইমে দুইটা ফ্যান একসাথে চলে এবং ফোন সেই লেভেলে হিট জেনারেট করে না।
100 ওয়াট চার্জার দিয়ে 0 থেকে 100% ফুল চার্জ করতে সময় লেগেছে 92 মিনিট। ব্যাকআপ দুর্দান্ত। 12 থেকে 15 ঘন্টার মতো Screen on Time পেতে পারেন, তবে প্রত্যেকের ইউজকেস আলাদা হওয়ায় এভাবে বলা হলো। একদম স্ক্রিনের লাইট বাড়িয়ে রেখে উড়াধুড়া গেমিং করতে থাকলে কিছুটা কম ব্যাকআপ পাবেন। তবে অনায়াসে দেড় দিনের মতো ব্যবহার করা যায়।
এই ফোন দিয়ে অন্য স্মার্টফোনকে 27 ওয়াটে চার্জও করতে পারবেন, মানে পাওয়ার ব্যাংকের মতো কাজ করবে।
অন্যান্য ফিচার
এই স্মার্টফোনের হ্যাপটিক ফিডব্যাক ভালো, বেশ টাইট একটা ফিডব্যাক দেয়। আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার রয়েছে, পজিশন ঠিকঠাক এবং সুপার ফাস্ট ও একুরেট।
স্পিকার কোয়ালিটি ডেফিনিটলি ভালো লাগার কথা, এটা অন্যতম সেরা স্পিকার বলব অভিজ্ঞতা থেকে। যথেষ্ট লাউড ও ক্লিয়ার, সাউন্ডের ডেপথ ও ক্লারিটি সব জায়গায় ঠিকঠাক, সাউন্ড ব্যালেন্স ইভেন। সাউন্ড কোয়ালিটি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবেন।
নেটওয়ার্ক রিসেপশন ঠিকঠাক, উভয় কানেকশনে। GPS ম্যাপিংও ঠিকঠাক কাজ করছে।
প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন: Honor Win এর দাম কত?
উত্তর: এই মুহূর্তে Honor Win এর দাম 80,999 টাকা।
প্রশ্ন: Honor Win এ কি ফ্যান আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, Honor Win এ কুলিং ফ্যান রয়েছে যেটা 25,000 RPM পর্যন্ত ঘুরতে পারে। তবে এটা 30 থেকে 40 dB নয়েজ তৈরি করে, যা কিছুটা বিরক্তিকর হতে পারে।
প্রশ্ন: Honor Win এর ব্যাটারি ব্যাকআপ কেমন?
উত্তর: 10,000 mAh এর ব্যাটারি দিয়ে অনায়াসে দেড় দিনের মতো ব্যবহার করা যায়। 100 ওয়াট চার্জারে 0 থেকে 100% চার্জ হতে সময় লাগে 92 মিনিট।
প্রশ্ন: Honor Win কি ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট করে?
উত্তর: হ্যাঁ, 80 ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট রয়েছে। তবে ওয়্যারলেস চার্জার আলাদা কিনতে হবে।
প্রশ্ন: Honor Win এর ক্যামেরা কি এই দামের সেরা?
উত্তর: না, এই বাজেটের সেরা ক্যামেরা ফোন না। প্রপার লাইটিংয়ে ভালো ছবি দেয়, তবে লো লাইটে বা ডায়নামিক রেঞ্জে Samsung বা Vivo এর কিছু ডিভাইস বেটার আউটপুট দেয়।
প্রশ্ন: Honor Win কি গেমিংয়ের জন্য ভালো?
উত্তর: হ্যাঁ, Snapdragon 8 Elite চিপ ও কুলিং ফ্যানের কারণে গেমিং পারফরম্যান্স দুর্দান্ত। PUBG Mobile 90fps এ লকড রেজাল্ট দিচ্ছে এবং অন্যান্য গেমেও সুপার স্মুথ পারফরম্যান্স পাওয়া যাচ্ছে।
শেষ কথা
তাহলে Honor Win কি আসলেই উইনার হতে পারবে? 80,000 টাকায় হ্যাঁ, কিছু জায়গায় উইনার হতেই পারবে। ভালো একটা SoC রয়েছে, একদম টপ লেভেলের পারফরম্যান্স আশা করতে পারেন। ক্যামেরা সেটআপ ভালো দিয়েছে, যারা পারফরম্যান্স ডিভাইস কিনবেন তারা এরকম ক্যামেরা সেটআপ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবেন। ব্যাটারি ইনসেন লেভেলের, বিশাল বড় ব্যাটারি আছে তাই টেনশন করার কোনো কারণ নেই। ওভারঅল বিল্ড কোয়ালিটি ভালো। কুলিং ফ্যানের ব্যাপারটা অনেকের কাছে একটা ফ্লেক্সের বিষয় হতে পারে এবং এটা আসলে কাজেও লাগছে।
তবে প্রাইসটা একটু সুইটেবল জায়গায় চলে আসলে, মানে 70,000 টাকার আশেপাশে হলে, ডিভাইসটা আরো দারুণ হতো।
অলরেডি যারা কিনে ব্যবহার করছেন কমেন্ট করে জানাবেন। সবাই ভালো থাকুন।