সার্বজনীন পেনশন স্কিম ২০২6: সবাই পাবেন আজীবন পেনশন!

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরির পর পেনশন সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু দেশের সব মানুষকে পেনশনের আওতায় আনার জন্য সরকার নতুন একটি আইনের প্রস্তাব করেছে।

এটি সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন ২০২৩ নামে পরিচিত। গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে জাতীয় সংসদে এই বিল পাস হয়েছে।

কারা এই স্কিমে অংশ নিতে পারবেন?

নিয়ম ১: ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সকল বাংলাদেশী নাগরিক এই স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী কর্মীরাও যুক্ত হতে পারবেন।

নিয়ম ২: বিশেষ বিবেচনায় ৫০ বছরের বেশি বয়সীদেরও পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে তাকে ধারাবাহিক ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার পর যে বয়সে পৌঁছাবেন, সেই বয়স থেকে আজীবন পেনশন পাবেন।

গুরুত্বপূর্ণ: সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি পেনশন পাচ্ছেন বলে এই স্কিমের বাইরে থাকবেন (সরকার প্রজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত)।

পেনশন পাওয়ার শর্ত

  • স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা প্রদান করতে হবে।
  • ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে পেনশন তহবিলে জমা টাকা ও মুনাফার বিপরীতে আজীবন পেনশন পাবেন।
  • পেনশন ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাপনায় সহজেই গ্রহীতার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
  • প্রত্যেকের জন্য আলাদা পেনশন হিসাব থাকবে। চাকরি পরিবর্তন করলেও নতুন করে হিসাব খুলতে হবে না, আগের হিসাব চালু থাকবে।

চাঁদা ও জরিমানা

  • সর্বনিম্ন চাঁদার হার পেনশন কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেবে।
  • মাসিক চাঁদা অগ্রিম বা কিস্তিতে জমা দেওয়া যাবে।
  • চাঁদা জমা দিতে দেরি হলে জরিমানা দিতে হবে। জরিমানাসহ চাঁদা জমা দিয়ে হিসাব সচল রাখা যাবে।

মৃত্যুর পর কী হবে?

  • পেনশনার আজীবন (মৃত্যু পর্যন্ত) পেনশন পাবেন।
  • ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যু হলে নমিনি অবশিষ্ট সময় (৭৫ বছর পর্যন্ত) মাসিক পেনশন পাবেন।
  • ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার আগে মৃত্যু হলে জমা টাকা + মুনাফা নমিনিকে ফেরত দেওয়া হবে।

অন্যান্য সুবিধা

  • পেনশন তহবিলের ৫০% পর্যন্ত ঋণ হিসেবে উত্তোলন করা যাবে (পরবর্তীতে ফেরত দিতে হবে)।
  • পেনশন তহবিলে জমা টাকা করমুক্ত।
  • মাসিক পেনশন হিসেবে পাওয়া টাকাও করমুক্ত।
  • সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এতে অংশ নিতে পারবে।
  • নিম্নআয়ের মানুষের জন্য চাঁদার একটি অংশ সরকার অনুদান হিসেবে দিতে পারে।

শেষ কথা

এটি এখনও স্বেচ্ছামূলক। পরবর্তীতে সরকার বাধ্যতামূলক করতে পারে। পুরোপুরি গেজেট আকারে প্রকাশ হওয়ার পর বিস্তারিত নিয়ম জানা যাবে।

moviezrulezmovie.com একটি বাংলাতে শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটে মোবাইল ব্যাংকিং, রিভিউ, ব্যাংক, কার্ড, টিপস এবং ইনফো বিষয়ক শিক্ষামূলক আর্টিকেল পাবলিশ করা হয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন:

Leave a Comment